মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C

কুড়িল উড়ালসেতু

কুড়িল উড়ালসেতু, যা কুড়িল ফ্লাইওভার নামেই সমধিক পরিচিত, ঢাকার কুড়িল মোড়ে, এয়ারপোর্ট সড়ক ও প্রগতি সরণির সংযোগস্থলে, নির্মীয়মান বাংলাদেশের তৃতীয় উড়ালসেতু। অন্য দুটি উড়ালসেতু হলো যথাক্রমে মহাখালি উড়ালসেতু ও খিলগাঁও উড়ালসেতু। সরকারিভাবে এটি অবশ্য কুড়িল বহুমুখী ফ্লাইওভার নামে পরিচিত। প্রকল্পটির লক্ষ্য হচ্ছে ঢাকার সঙ্গে পূর্বাচল নতুন শহরের সংযোগ স্থাপন, বিমানবন্দর সড়ক ও প্রগতি সরণি সংযোগস্থলের যানজট হ্রাস এবং নগরীর উত্তর-পশ্চিম অংশের পরিবহন যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন। এই সেতুটির নির্মাণ কাজের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩০৬ কোটি টাকা। প্রকল্পটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা রাজউক। দুই বছরমেয়াদী প্রকল্পটি ২০১২ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাসে সম্পন্ন হবে বলে প্রাক্কলিত হয়। কিন্তু পরে তা ২০১৩ খ্রিস্টাব্দের ৪ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে জনগণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।

 

বিবরণঃ

উড়ালসেতুটির নির্মাণ কাজের উদ্বোধন ঘোষণা করেন বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ খ্রিস্টাব্দের ২ মে। উড়ালসেতুটি নির্মাণে রাজউক-এর নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করা হচ্ছে। সেতুটি আরসি গ্রিডার ও পিসি বক্স গ্রিডার উভয় পদ্ধতির মিশ্রণে তৈরি হচ্ছে। পুরো সেতুটির সড়ক-দৈর্ঘ্য হবে ৩.১ কিলোমিটার। সেতুটির উচ্চতা ১৪.৫ মিটার (৪৭.৫৭ ফুট) এবং প্রস্থ ৯.২ মিটার (৩০.১৮ ফুট)। উড়াল সেতুটির মধ্যে থাকবে ৪টি লুপ বা ঘুর্ণি। এর নির্মাণে পাইলিং হবে ২৯২টি, পায়ার হবে ৬৭টি। পাইল কেপ হবে ৬৮টি। এই প্রকল্পের অধীনে ৩০০ ফুট প্রশস্ত একটি সংযোগ সড়কও নির্মিত হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রকল্পের অধীন প্রচুর জমি সরকার অধিগ্রহণ করে, ফলে উচ্ছেদ করা হয় অনেক স্থাপনা। উড়ালসেতুটির উদ্বোধনকালীন ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই উড়ালসেতুর নির্মাণ খরচ প্রাক্কলিত হয় ৩০৩ কোটি টাকা।

 

নির্মাণকাজঃ

উড়ালসেতুটির নির্মাণ কাজ বাস্তবায়নে রয়েছে রাজউক। নির্মাণ কাজে জড়িত রয়েছে প্রজেক্ট বিল্ডার্স লিমিটেড নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। উদ্বোধনের প্রারম্ভলগ্ন থেকেই এর নির্মাণ কাজ জোরেসোরে শুরু হয়। এছাড়া নির্মাণ কাজ ধীরগতিতে চলছে বলেও পত্রপত্রিকায় আশংকা প্রকাশ করা হয়। নির্মাণে ধীরগতির জন্য নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের জনবল ও যন্ত্রবলের ঘাটতি এবং রেলওয়ের জমি অধিগ্রহণে জটিলতাকে দায়ী করা হয়। নির্মাণ চলাকালীন রাস্তায় বোটল নেক তৈরি হওয়ায় এসময় রাস্তাগুলোতে প্রতিদিনই তৈরি হয় প্রবল যানজট।[২] কিন্তু ২০১৩ খ্রিস্টাব্দের ৪ আগস্ট উড়ালসেতুর উদ্বোধন হবার পর এই চিত্র পাল্টে যায়, এবং বিনা জ্যামে বিশ্বরোড মোড় পার হতে পারে বিভিন্ন দিক থেকে আসা যানবাহনসমূহ।

 

সূত্রঃ উইকিপিডিয়া, মুক্তবিশ্বকোষথেকে।